
এম এ মমিন আনসারীঃ
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি,সমাজ সেবক ও প্রবাসী কাজী এনায়েত উল্লাহর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলায়াত করা হয়। এরপর মহান বিজয় দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এ জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী এনায়েত উল্লাহ বলেন,
“বিজয় দিবস আমাদের আত্মত্যাগ, ঐক্য ও সংগ্রামের শিক্ষা দেয়। এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঢাকা-১৭ আসনের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে আমি কাজ করতে চাই। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন আমার অগ্রাধিকার।”
তিনি বলেন, ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, বেকারত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ন, সেবা সংস্থাগুলোর দুর্বলতা এবং যুব সমাজের কর্মসংস্থানের অভাব একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যার টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে তিনি পরিকল্পিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কাজী এনায়েত উল্লাহ আরও জানান, নির্বাচিত হলে এলাকায় একটি আধুনিক ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে এক হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক ও যুবতীকে কর্মমুখী মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের বিনামূল্যে পাসপোর্ট করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ করতে পারে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে।
প্রধান অতিথি আরও বলেন,
“তরুণ সমাজই আগামীর বাংলাদেশ। তাদের দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে ঢাকা-১৭ আসন একটি মডেল ও উন্নয়নবান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে উঠবে। রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের সেবার জন্য।”
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে হলে সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। তারা ঢাকা-১৭ আসনের সার্বিক উন্নয়নে কাজী এনায়েত উল্লাহর পরিকল্পনাকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক কর্মী, সমাজসেবক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শেষে প্রার্থীর পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। এ সময় অতিথি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
Leave a Reply