
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শফিকুল ইসলাম আলম—যিনি এলাকায় রেফারী আলম, ফুটবলার আলম, কবিরাজ আলম ও পরিচালক আলমসহ নানা নামে পরিচিত—তার বিরুদ্ধে একের পর এক ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কলেজ শিক্ষক পরিচয়ের আড়ালে তিনি শত শত নারীকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে বিয়ে ও চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আলম প্রথমে নিজেকে শিক্ষক, কখনো কবিরাজ, কখনো পরিচালক কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে নারীদের আস্থা অর্জন করেন। এরপর বিয়ে বা চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে একপর্যায়ে অর্থ আত্মসাৎ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, বিয়ের পর আলম তাদের খোঁজখবর নিতেন না, ভরণপোষণও দিতেন না। দাম্পত্য জীবনের মধ্যেই তারা জানতে পারেন—আলমের অতীতে আরও অন্তত তিনজন স্ত্রী রয়েছে এবং বর্তমানে তিনি একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছেন। এ কারণে অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বিভিন্ন ভুক্তভোগীর মাধ্যমে আরও অনেকের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। সরকারি ও বেসরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এমনকি একজন আইনজীবীর কাছ থেকেও চাকরির আশ্বাস দিয়ে ২৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগী ‘বৃষ্টি’ (ছদ্মনাম) অভিযোগ করেন, আলম নিজেকে চলচ্চিত্র পরিচালক পরিচয় দিয়ে সিনেমায় কাজ দেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং পরবর্তীতে অর্থ আত্মসাৎ করেন। একই ধরনের অভিযোগ করেন ‘কবিতা’ (ছদ্মনাম) নামের এক ডিভোর্সি নারী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামালপুরে আলমের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাকে আগের স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে কবিরাজির আশ্রয় নেন আলম। একপর্যায়ে ভুয়া কাজি ও কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করে দীর্ঘদিন তাকে ভোগ করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবারের হস্তক্ষেপে নতুন করে কাবিন করা হয়। তবে আলম একাধিকবার তালাক দিয়ে পুনরায় বিয়ে ও তালাকের মাধ্যমে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেন।
ওই ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার সন্তানদের চাকরি দেওয়ার কথা বলে আলম তার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়াও তার পরিচিতদের কাছ থেকেও চাকরির আশ্বাসে অর্থ সংগ্রহ করেন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, আলম দীর্ঘদিন কোনো এক জায়গায় অবস্থান করেন না। তিনি ঘনঘন স্থান পরিবর্তন করে নতুন নতুন কৌশলে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে পালিয়ে বেড়ান। পাওনাদারদের চাপ ও হুমকির মুখে পড়ে অনেক ভুক্তভোগী চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
এদিকে, ‘সেতু’ নামের এক নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং আলম ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণা ও নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ভুক্তভোগীরা একত্রিত হয়ে বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন এবং মতিঝিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি আদালতেও একাধিক মামলা চলমান রয়েছে বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলমের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগীরা আইনের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন এবং সমাজে আলমের কথিত বিভিন্ন পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রতারণার মুখোশ উন্মোচনের আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a Reply