রেমিটেন্স যোদ্ধাদের নিরাপত্তা, পেনশন ও কল্যাণ তহবিল গঠনের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বিশ্বজুড়ে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার দাবিতে দেশ-বন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ আন্তর্জাতিক সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেছে। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসলেও তাদের সামাজিক নিরাপত্তা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও কল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধা এখনো পর্যাপ্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক এডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রেমিটেন্স যোদ্ধারা দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে, কিন্তু বাস্তবতায় তাদের জীবনে রয়েছে নানা ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনা। তাই তাদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলার দাবি এখন সময়ের প্রয়োজন।
সংগঠনটির ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিশ্বের সকল রেমিটেন্স যোদ্ধাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রিসভায় একজন মন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদে দশজন সদস্য নিয়োগের বিষয়টি, যারা সরাসরি প্রবাসীদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। পাশাপাশি প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে আসা শ্রমিকদের জন্য একটি বিশেষ পেনশন স্কিম চালুর দাবি জানানো হয়েছে, যাতে তারা বার্ধক্যে আর্থিক নিরাপত্তা পেতে পারেন।
এছাড়া বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয়, দালালচক্রের প্রতারণা ও অনিয়ম কমিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বল্প ব্যয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে প্রবাসীরা আরও দক্ষ হয়ে উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান পেতে সক্ষম হবেন।
রেমিটেন্স যোদ্ধাদের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও দাবিগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংগঠনটির নেতারা বলেন, বিদেশে কর্মরত অনেক শ্রমিক নানা সময় দুর্ঘটনা, নির্যাতন কিংবা আইনি জটিলতায় পড়েন, কিন্তু দ্রুত সহায়তা পান না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
সংগঠনটি আরও দাবি জানিয়েছে, মোট রেমিটেন্স আয়ের ন্যূনতম দুই শতাংশ দিয়ে একটি বিশেষ কল্যাণ তহবিল গঠন করতে হবে, যার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা যাবে।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক এডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা এবং এম. এ. রউফ (কাতার) রয়েছেন। এছাড়া ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী প্রতিনিধি এতে যুক্ত রয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা সরকারের সঙ্গে দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং বিশ্বের সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।