ফলোয়াপ: প্রবাসী পল্লীর বিরুদ্ধে জাতীয় দৈনিকগুলোতে ধারাবাহিক অনুসন্ধান, তবুও থামছে না প্লট বাণিজ্য!
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর কান্দাইল মৌজায় রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা কথিত “পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী” প্রকল্প নিয়ে দেশজুড়ে যখন তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় একের পর এক জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে চাপে পড়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে সরকারি খাস জমি, খাল-বিল, জলাশয় ও তিন ফসলী কৃষিজমি দখল করে গড়ে ওঠা এই আবাসন প্রকল্পের নানা অনিয়ম ও প্রতারণার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রবাসী পল্লী কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে—ঘটনা ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদের “ম্যানেজ” করার চেষ্টা, বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগসহ নানা অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে “প্রবাসী পল্লী” নাম ব্যবহার করে হাজার হাজার প্রবাসী ও সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও এখনো অধিকাংশ ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি প্রতিশ্রুত প্লট। বরং আদালতের নির্দেশনা, পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান এবং রাজউকের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই অব্যাহত রয়েছে জমি দখল ও বালু ভরাটের কার্যক্রম।
এদিকে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনুসন্ধানী গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারি খাস জমি দখল, জলাধার ধ্বংস, অর্থ পাচার, প্রতারণামূলক প্লট বিক্রি এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ। এসব সংবাদ প্রকাশের পর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকল্পের বিরুদ্ধে একাধিক আদালতের মামলা ও সরকারি সংস্থার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি,
মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগও ক্রমেই বাড়ছে।
এ বিষয়ে জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্টের পক্ষ থেকে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লীর কার্যালয়ে ফোন করে তাদের বক্তব্য জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের জিএম জাকির হোসেন বলেন,
“আমরা সরকারি সকল নিয়ম-কানুন মেনেই আবাসন প্রকল্পের কাজ করছি। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদগুলো সঠিক নয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন- যদি প্রকল্পটি বৈধই হয়ে থাকে, তাহলে কেন রাজউক চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে এটিকে “অবৈধ প্রকল্প” হিসেবে উল্লেখ করেছেন? কেন পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান ও মামলা করেছে? আর কেন আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এখনো চলছে বালু ভরাট ও প্লট বাণিজ্য?
ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ ও কৃষকদের পৈত্রিক জমি রক্ষায় দ্রুত উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একইসঙ্গে তারা বর্তমান সরকার, ভূমি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিবেশ ধ্বংস, ভূমি দখল এবং হাজার হাজার গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতির এই ঘটনা ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম বড় আবাসন কেলেঙ্কারিতে রূপ নিতে পারে।