নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ:
নওগাঁ জেলায় বিভিন্ন এনজিও, সমিতি ও মানবাধিকার সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অসহায় ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কৌশলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম ও আকরাম নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, তারা কখনো নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা, কখনো দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা, আবার কখনো মানবাধিকার সংগঠনের চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও নিজেকে উচ্চশিক্ষিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। চাকরি, ঋণ, এনজিও সহায়তা ও বিভিন্ন সরকারি সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি অসহায় মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শফিকুল ইসলাম ও আকরাম একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পরিচালনা করে আসছেন। তার সহযোগীরা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সহজ-সরল মানুষদের টার্গেট করত এবং পরে নানা প্রলোভন ও ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত।
এদিকে প্রতারণার এসব অভিযোগ নিয়ে জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট ও বিভিন্ন অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর নতুন করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
প্রতারক শফিকুল ইসলাম সংবাদ প্রকাশে ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।
জানা গেছে, এ ঘটনায় নওগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের পর পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক দেওয়ান আজাদ পারভেজ ও স্হানীয় মানবাধিকার কর্মী আব্দুল ওয়াহেদ আজাদকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রতারণার অভিযোগের পাশাপাশি সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভুয়া পরিচয়, প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতারণার বলয় তৈরি করা হয়েছে। ফলে অনেক ভুক্তভোগী এখনো প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
জানা গেছে, শফিকুল, আকরাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও অনেক সাধারণ মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হতে পারেন।