মোঃ মাসুম রানা| গাজীপুর
গাজীপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন, ক্যামেরা ও নগদ টাকা ছিনতাই এবং বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. জাকারিয়া শিকদার, বেসরকারি টেলিভিশন Channel S-এর গাজীপুর প্রতিনিধি (মাল্টিমিডিয়া) হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে ঈদের দিন দুপুর আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন শেষে বোর্ডবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন জাকারিয়া শিকদার। এ সময় তিনি খবর পান যে, গাছা থানার মালেকের বাড়ি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দক্ষিণ পাশে একটি পরিত্যক্ত চারতলা ভবনে আবাসিক হোটেলের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুপুর আনুমানিক ২টা ৫৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি নিজের ব্যবহৃত স্মার্টফোনে তথ্যচিত্র ধারণ করেন। ভিডিও ধারণ শেষে সেখান থেকে বের হওয়ার সময় ভবনে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীরা তার গতিরোধ করে জোরপূর্বক ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে যায় এবং তাকে আটকে রাখে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সেখানে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করা হলে তার কপাল ও চোখের পাশে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া কিল-ঘুষি মারার ফলে মুখমণ্ডল ও ঠোঁট রক্তাক্ত হয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্যাতনের একপর্যায়ে তার পেশাগত কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ক্যানন ব্র্যান্ডের ডিএসএলআর ক্যামেরা, ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং পকেটে থাকা ৭ হাজার টাকা নগদ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা তাকে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরে বিষয়টি কাউকে জানানো হলে বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সেসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের ভয়ভীতিও প্রদর্শন করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা সাংবাদিকের মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ছবি ও পেশাগত নথিপত্র মুছে ফেলে। প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখার পর ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় জাকারিয়া শিকদার Shaheed Tajuddin Ahmad Medical College Hospital-এ প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে সহকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, এজাহারের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাতেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মিলন (১৮), ওমর ফারুক (২৯), মধু (২০), শাহআলম মীর (৪৬) এবং কবির ওরফে আব্দুল কাদির (৩৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত কবিরের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, সাংবাদিকের ওপর হামলা, অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।