এ কে এম শরিফুল ইসলাম জুয়েল:
নির্বাচনকে ঘিরে কিছু প্রার্থীর আচরণ আজ বিস্ময় জাগায়। নির্বাচন এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি, ভোট গণনা তো দূরের কথা, অথচ তাদের কথাবার্তা শুনলে মনে হয় তারা যেন অনেক আগেই চেয়ারম্যানের শপথ নিয়ে ফেলেছেন। কয়েক কাপ চা পান করানো, সামান্য আপ্যায়ন করা কিংবা কিছু অর্থ ব্যয় করেই তারা এমন এক আত্মবিশ্বাসে ভুগছেন যে, ভোটারদের মন ও বিবেক নাকি তাদের পকেটে চলে গেছে।
আরও আশ্চর্যের বিষয়, তারা শুধু নিজেদের বিজয়ী ভাবছেন না; অন্য প্রার্থীদেরও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন। তাদের বক্তব্যে এমন এক ধরনের দম্ভ ফুটে ওঠে, যেন নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা, আর জনগণের রায় শুধুই একটি কাগুজে প্রক্রিয়া। তারা ভুলে যাচ্ছেন, ভোটাররা কোনো পণ্য নয়, যাদের সামান্য আপ্যায়নের বিনিময়ে কেনা যায়।
গ্রামের মানুষ সরল হতে পারে, কিন্তু তারা বোকা নয়। তারা কারও চা পান করতে পারে, কারও সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারে, কারও দাওয়াতে অংশ নিতে পারে—কিন্তু তাই বলে তাদের বিবেক বিক্রি হয়ে যায় না। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করার পর একজন ভোটারের সামনে থাকে শুধু তার বিবেক, তার বিচারবোধ এবং এলাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে তার চিন্তা। সেখানে কোনো চায়ের কাপ, কোনো দাওয়াত কিংবা কোনো অর্থের প্রভাব স্থায়ী হয় না।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু প্রার্থী মনে করছেন, অর্থ ব্যয় করাই জনপ্রিয়তার প্রমাণ। অথচ প্রকৃত জনপ্রিয়তা তৈরি হয় মানুষের হৃদয়ে, সেবার মাধ্যমে, সততার মাধ্যমে এবং দীর্ঘদিন মানুষের পাশে থাকার মাধ্যমে। অর্থ দিয়ে লোক জড়ো করা যায়, করতালি পাওয়া যায়, কিন্তু সম্মান ও বিশ্বাস কেনা যায় না।
যারা আজ প্রকাশ্যে বলছেন, "আমরা তো চেয়ারম্যান হয়েই গেছি", তাদের মনে রাখা উচিত—চেয়ারম্যানের চেয়ার কোনো ব্যক্তির বাপ-দাদার সম্পত্তি নয়। সেই চেয়ারের মালিক জনগণ। জনগণ চাইলে সেখানে বসাবে, জনগণ চাইলে নামিয়েও দেবে। গণতন্ত্রের ইতিহাসে অহংকার কখনো স্থায়ী বিজয় এনে দিতে পারেনি।
নির্বাচনের মাঠে সবচেয়ে বড় শক্তি টাকা নয়, সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের আস্থা। আর জনগণের আস্থা অর্জন করা যায় না বড় বড় কথা বলে বা আত্মপ্রচার করে; তা অর্জন করতে হয় বিনয়, সততা ও কর্মের মাধ্যমে।
তাই যারা আজ সামান্য আপ্যায়নের হিসাব কষে নিজেদের বিজয় নিশ্চিত মনে করছেন, তাদের জন্য একটি কথাই যথেষ্ট—চায়ের কাপে ঝড় তোলা যায়, কিন্তু চায়ের কাপে চেয়ারম্যান হওয়া যায় না। শেষ সিদ্ধান্ত লিখবে জনগণ, শেষ রায় দেবে ব্যালট, আর শেষ হাসি হাসবে সেই ব্যক্তি, যাকে সত্যিকার অর্থে মানুষ যোগ্য মনে করবে।
লেখক :
মোর্শেদে কেবলা দয়ালবাবা
এ কে এম শরিফুল ইসলাম জুয়েল
নির্বাহী সম্পাদক: জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকা ঢাকা।