স্টাফ রিপোর্টার | শহিদুল ইসলাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের বাগবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে দিনব্যাপী আয়োজন, বাইরের জেলা থেকে নৃত্যশিল্পী এনে পরিবেশনা এবং কিছু সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে আয়োজকদের একজন হিসেবে পরিচিত মো. মাসুদ রানা (কেচু) নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর মন্তব্য ও হুমকিসূচক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নজরে আসে, মো. মাসুদ রানা (কেচু) বিভিন্ন সময়ে র্যাব ও পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় নিজের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩ নম্বর দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত এরফান আলীর ছেলে মো. মাসুদ রানা (কেচু) কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নন। এমনকি সংশ্লিষ্ট বাহিনীতে চাকরির জন্য আবেদন করার তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ তথ্যের ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসচেতনতার স্বার্থে প্রচার করা হয় যে, র্যাব ও পুলিশের পোশাকে যাকে দেখা যাচ্ছে, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য নন।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে মো. মাসুদ রানা (কেচু) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেন, "প্রত্যেক মানুষের জীবনে কিছু না কিছু শখ বা ইচ্ছা থাকে। ছোটবেলা থেকেই আমার পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য হওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল। সেই ভালোবাসা থেকেই বন্ধুদের পোশাক পরে কিছু ছবি তুলেছি এবং সেগুলো ফেসবুকে পোস্ট করেছি। আমি কখনোই দাবি করিনি যে আমি পুলিশ বা র্যাবের সদস্য।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার কয়েকজন বন্ধু বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন এবং তাদের পোশাক পরেই তিনি নিজের শখ পূরণ করেছেন।
তবে এ বক্তব্যের পর নতুন করে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যে পোশাক রাষ্ট্রের মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও সম্মানের প্রতীক, সেটি ব্যক্তিগত শখ পূরণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা কতটা আইনসম্মত এবং নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার কোনো লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তার দাবি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বাহিনীতে কর্মরত বন্ধুদের মাধ্যমে পোশাক সংগ্রহের বিষয়টিও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।