নিজস্ব প্রতিবেদক | গাইবান্ধা:
গাইবান্ধা থেকে ঢাকা সায়দাবাদগামী সিআইপি পরিবহনের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে।
সর্বশেষ এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগ বহন করে আসছে পরিবহনটি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) গাইবান্ধার ঢোলভাঙ্গা এলাকা থেকে ঢাকা বাড্ডা যাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিবারসহ চারটি টিকিট ক্রয় করেন জয়নুল আবেদীন। যাত্রার সময় তার সঙ্গে বাসায় নেওয়ার জন্য প্রায় এক মণ চালের একটি বস্তা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই চাল পরিবহনের জন্য সিআইপি পরিবহনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার অতিরিক্ত ৬০০ টাকা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের বিষয়ে আলোচনা চলাকালীন তাকে রেখেই বাস ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি ও তার স্বজনরা প্রতিবাদ জানালে সুপারভাইজার তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি অবমাননাকর মন্তব্যও করেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সালমান ফারসি বিষয়টি জানার জন্য এগিয়ে এলে তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একপর্যায়ে সাংবাদিককে ধাক্কা দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করা হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও বিষয়টি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিআইপি পরিবহনের বিরুদ্ধে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা, নির্ধারিত যাত্রীকে রেখে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া, সময়সূচি না মানা এবং সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবহন কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো প্রতিকার বা তদন্তের উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
সচেতন মহলের মতে, গণপরিবহন খাত জনগণের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত। সেখানে যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ কিংবা দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ বিষয়ে সিআইপি পরিবহনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় যাত্রীদের প্রশ্ন-
যাত্রী সেবার নামে চলা এমন অভিযোগগুলো কি শুধুই বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর আড়ালে রয়েছে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতাহীন ও নৈরাজ্যের সংস্কৃতি?