
লেখক: অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক, “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশকে দেওয়ার জন্য সংগ্রাম—এই ধারণাটিকে সামনে রেখে একটি নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের কথা তুলে ধরেছেন অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা। তার মতে, “আমরা দেশ থেকে নেওয়ার জন্য নয়, বরং দেশকে দেওয়ার জন্যই সংগ্রাম করছি”—এই বার্তাই হতে পারে একটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও রাজনৈতিক সহিংসতা এখনো বড় এক অন্তরায়। বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর, এমনকি প্রাণহানির মতো ঘটনাগুলো শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় না, বরং গণতান্ত্রিক চর্চাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ বাস্তবতায় একটি মানবিক, সহনশীল ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
অ্যাডভোকেট ঈসা তার বক্তব্যে বলেন, একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না; বরং সেই উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে তখনই, যখন দেশের সাধারণ মানুষ নিরাপদ, সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও সহনশীলতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনীতি হওয়া উচিত মতের ভিন্নতাকে সম্মান করে যুক্তির মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করার একটি মাধ্যম। কিন্তু যখন রাজনীতি প্রতিহিংসা, শক্তির অপব্যবহার ও ভীতির সংস্কৃতিতে রূপ নেয়, তখন তা জাতির নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। তাই এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার কথাও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। “রেমিটেন্স যোদ্ধা” হিসেবে পরিচিত এই বিশাল জনগোষ্ঠী বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছে। তাদের এই নিঃস্বার্থ অবদান দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা দেখিয়ে দিয়েছেন—দেশকে ভালোবাসা মানে শুধু দাবি করা নয়, বরং দায়িত্ব নেওয়া এবং অবদান রাখা।
“দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগঠনটি একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা একত্রিত হয়ে দেশের উন্নয়ন, মানবাধিকার, আইনি সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন। সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এখন সময় এসেছে একটি নতুন ধরণের রাজনীতির—
যেখানে থাকবে না সহিংসতা, থাকবে না প্রতিশোধ;
বরং থাকবে মানবতা, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।
নারীদের অংশগ্রহণও এই সংগঠনে উল্লেখযোগ্য, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ইঙ্গিত বহন করে। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী, আইনজীবী, সাংবাদিক ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দের সম্পৃক্ততা সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সবশেষে অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা বলেন, “দেশকে ভালোবাসা মানে শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয়, বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করা। আমাদের লক্ষ্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা—যেখানে প্রতিটি মানুষ সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই ধরনের ইতিবাচক চিন্তা ও উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের রাজনীতি একটি নতুন দিকনির্দেশনা পেতে পারে—যেখানে সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, আর বিভেদের পরিবর্তে ঐক্যই হবে অগ্রগতির মূল শক্তি।
Leave a Reply