
মোহাম্মদ সোহেল রানা চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান:
বিএনপি,র চেয়ারম্যান জনাব,তারেক রহমান বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের এক গভীর আবেগ ও ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুনিশ্চিত সুযোগ পাবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত
এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আজ এই দেশের জনগণ, এই দেশের মানুষ যদি বিএনপির পাশে থাকে- ইনশাআল্লাহ আগামী দিনেও আমরা একইভাবে কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করব; যাতে দেশের সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা
জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তখন তিনি সমাবেশে আগত নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, এ কারণে আমরা চট্টগ্রাম নগরীতে খাল খনন করতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল খনন কর্মসূচিতে যোগ দিতে রাজী আছেন- চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড নির্মাণ করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ৫০ কোটি বৃক্ষ রোপন করবে বলেও আশ্বস্ত করেন তারেখ রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো মানুষের নিরাপত্তা, যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দেইনি।
আগামীতেও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আর দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে যেমন সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে কেউ দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে বলেও উল্লেখ করেন, কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন,যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।
তিনি আরও বলেন, আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন। এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর
আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবারও একই রকম একটি গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) কুয়াশা মোড়ানো সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ আবার মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ও মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায়।
দীর্ঘ দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্ল,তে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন।
সূত্র জানায়, রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন। এরপর তিনি পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীকে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার আওতায়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সিএমপির পক্ষ থেকে মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে-রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।
উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য দেন।
Leave a Reply