
নিজস্ব প্রতিনিধি:
জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আয়োজিত এক শালিস দরবারে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ ইং, বিকাল আনুমানিক ৪টায় অনুষ্ঠিত এ শালিসে উভয় পক্ষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
শালিসে প্রথম পক্ষের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট হোসেন আলী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেলান্দহ উপজেলা শাখার যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হযরত আলী (আন্না), দুরমুঠ ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব, জাতীয়তাবাদী তারেক জিয়ার প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সিনিয়র আইনজীবী সহকারী এবং বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক ফোরামের আজীবন সদস্য সাংবাদিক আব্দুর রহিমসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শালিস কার্যক্রমের শুরুতে পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক থাকলেও এক পর্যায়ে দ্বিতীয় পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাদুওয়ান হাসান আকস্মিকভাবে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আলোচনার পরিবেশ বিঘ্নিত করে প্রথম পক্ষসহ উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ প্রদর্শন করেন। এমনকি কথোপকথনের এক পর্যায়ে হুমকিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন বলেও উপস্থিত কয়েকজন অভিযোগ করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এর ফলে শালিস দরবারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায় এবং উপস্থিতদের মধ্যে অস্বস্তি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আয়োজক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শালিস কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে কোনো সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শালিসটি মূলতবি ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার পরপরই উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। তারা জানান, একজন আইনজীবীর কাছ থেকে শালিসের মতো সংবেদনশীল পরিবেশে সংযত, মার্জিত ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। কিন্তু এ ধরনের আচরণ শুধু শালিস প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থাকেও ক্ষুণ্ণ করে।
এলাকাবাসী আরও বলেন, গ্রামীণ বিরোধ নিষ্পত্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে শালিস দরবার দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। সেখানে পেশাজীবীদের দায়িত্বহীন ও উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ ভবিষ্যতে এ প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারে।
পরিশেষে, উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর আচরণ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম পক্ষের আইনজীবীসহ উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ জনগণ এ ঘটনায় অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ও পেশাগত আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a Reply