আবু জাফর মন্ডল এখলাছ স্টাফ রিপোর্টার:
দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রখর রোদ আর অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট যেন কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। গাইবান্ধা জেলা সদর, পলাশবাড়ী, সাদুল্যাপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র গরমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদের কারণে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। অন্যদিকে জীবিকার তাগিদে বাইরে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষদের বাধ্য হয়েই রোদে পুড়ে কাজ করতে হচ্ছে।
সকালের পর থেকেই সূর্যের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। দুপুর গড়াতেই রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষিশ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গরমের তীব্রতায় হাঁপিয়ে উঠছেন। অনেককে রাস্তার পাশে, গাছের ছায়ায় কিংবা দোকানের সামনে বসে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে।
গাইবান্ধা সদর এলাকার রিকশাচালক আব্দুল হালিম বলেন, “সকালে কিছুটা কাজ করা গেলেও দুপুরের পর রাস্তায় থাকা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। রোদে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। তারপরও পরিবারের কথা চিন্তা করে কাজ করতে হচ্ছে।
সাদুল্যাপুর উপজেলার এক কৃষিশ্রমিক জানান, “মাঠে কাজ করতে গিয়ে বারবার বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। মাথা ঝিমঝিম করে, শরীর দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে না।
পলাশবাড়ী উপজেলার এক ভ্যানচালক বলেন, “গরমে যাত্রীও কমে গেছে। আয় কমে গেছে, আবার রোদে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তীব্র গরমে স্বস্তি খুঁজতে অনেকেই ভিড় করছেন আখের রস, ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও বিভিন্ন ঠান্ডা পানীয়ের দোকানে। বিশেষ করে আখের রসের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষ আখের রস পান করে সাময়িক স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা করছেন।
এক আখের রস বিক্রেতা জানান, “অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন বিক্রি অনেক বেশি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। গরম যত বাড়ছে, আখের রসের চাহিদাও তত বাড়ছে।
সাধারণ মানুষের ভাষ্য, প্রতিবছর গরম পড়লেও এ বছরের তাপদাহ যেন আরও বেশি কষ্টদায়ক। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনজীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
এদিকে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা, হালকা খাবার গ্রহণ করা এবং শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার জন্য। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তীব্র তাপদাহে যখন সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তখন আখের রসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক পানীয় সাময়িক স্বস্তি দিলেও দ্রুত বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন গাইবান্ধাসহ দেশের লাখো মানুষ।