নিজস্ব প্রতিবেদক |মুন্সিগঞ্জ:
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীতে মুক্তারপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহভাবে নদীর তলদেশ কাটার অভিযোগ উঠেছে Summit Alliance Port Limited ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ড্রাম ডেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে কোটি টাকার বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে, যা মুক্তারপুর সেতুর পিলারসহ পুরো এলাকার জননিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তোলিত বালু কিনে নিয়ে স্থানীয় মোশাররফ মেম্বার আরও ব্যাপকভাবে ড্রাম ডেজার দিয়ে নদী কাটছেন এবং বিভিন্ন স্থানে বালু মজুদ করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সামনেই এ কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেন সামিট পোর্টের নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে যে কাগজপত্র দেখানো হয়, তাতে দেখা যায় বালু উত্তোলনের অনুমতির মেয়াদ ২০১৫ সালেই শেষ হয়েছে। এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কোন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে নদী কেটে তথ্য সংগ্রহেও বাধা দেওয়া হচ্ছে?
এ বিষয়ে সামিট পোর্টের অ্যাডমিন জাহিদ হাসান ফোনে দাবি করেন, Bangladesh Inland Water Transport Authority (BIWTA) প্রতিবছর মৌখিকভাবে তাদের নদী থেকে বালু কাটার অনুমতি দিয়ে থাকে। তবে বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা। সংস্থাটির দাবি, ড্রাম ডেজার ব্যবহার করে এভাবে নদীর তলদেশ কাটার কোনো বৈধ অনুমোদন নেই।
অন্যদিকে মোশাররফ মেম্বার নিজেকে সামিট পোর্টের ঠিকাদার দাবি করে বলেন, তিনি বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমতি নিয়েই বালু উত্তোলন করছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমতির আড়ালে ভয়াবহভাবে নদী কেটে কোটি টাকার বালু বাণিজ্য চালানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুক্তারপুর ব্রিজের পিলারের ১০০ মিটারেরও কম দূরত্বে ভারী ডেজার দিয়ে নদীর তলদেশ কাটার ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারপরও রহস্যজনক কারণে থামছে না বালু উত্তোলনের কার্যক্রম।
এ বিষয়ে মুক্তারপুর সেতু কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী জুনায়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। পরে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সার্ভে করা হয়েছে।
অন্যদিকে মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন, “আমাদের নজরে এমন কিছু আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএ’র আওতাধীন।
এদিকে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—সরকারি নদী কেটে দিনের পর দিন বালু লুট চললেও প্রশাসনের নজরে না পড়া কি আদৌ সম্ভব? নাকি প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চলছে ধলেশ্বরী নদী ধ্বংসের ভয়ংকর মহোৎসব?