ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নাটকঘর লেন এলাকার হরিজন পল্লীর বাসিন্দা বিশ্বনাথ দাসের ছেলে মিঠুন দাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি, অন্যের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন এবং স্ত্রীকে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও চাকরির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নিয়োগে অনিয়মের শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, মিঠুন দাস দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত থাকার পাশাপাশি ন্যাশনাল ব্যাংক, ময়মনসিংহ শাখায়ও স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) দুপুরে প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মিঠুন দাস দাবি করেন, তিনি আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং পরে ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশনে বদলি হয়ে যোগদান করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাস্তবে রেলওয়ের দায়িত্ব নিজে পালন না করে অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়ে বেতনের একটি অংশ ভাগাভাগি করতেন। অপরদিকে ব্যাংকের চাকরিতে তিনি নিজেই নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েক বছর আগে রেলওয়েতে এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে অনেক কর্মচারীর চাকরি চলে গেলেও রহস্যজনকভাবে মিঠুন দাস বহাল থাকেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানাজানি হলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়কে বিষয়টি অবহিত করে। পরে তৎকালীন ডিএমডি শেখ আখতার উদ্দীন মিঠুনকে ব্যাংকের চাকরি ছাড়ার পরামর্শ দেন এবং তিনি ব্যাংকের পাওনা বুঝে নিয়ে পদত্যাগ করেন।
কিন্তু এরপরও অভিযোগ অনুযায়ী, মিঠুন দাস পুনরায় কৌশলে রেলওয়ের চাকরি আগের মতো অন্যের মাধ্যমে পরিচালনা করতে থাকেন। একই সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংকের ময়মনসিংহ শাখায় তার স্ত্রী অনন্যা দাশ পূজাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, অনন্যা দাশ পূজা নাকি রেলওয়ে কিংবা ন্যাশনাল ব্যাংকের কোনো কর্মস্থলেই নিয়মিত উপস্থিত হন না। বরং তার পরিবর্তে মিঠুন দাসই ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে স্বামী-স্ত্রীর নামে একাধিক চাকরির সুযোগ নিয়ে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ থেকে বেতন উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, দায়িত্বে অসদাচরণ এবং সংঘবদ্ধ দুর্নীতির শামিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তৎকালীন প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলেছে এবং এখনও এর প্রভাব বিদ্যমান।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তি ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদকের মন্তব্য: এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো অভিযোগ ও বিভিন্ন সূত্রের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তারিত বক্তব্য সংগ্রহের সুযোগ থাকলে তা প্রকাশ করা হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হওয়াই কাম্য।