• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
Headline
৭০ লাখ টাকা নিয়েও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়নি আল ফালাক রিয়েল এস্টেট! মামলা তুলতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সাঘাটায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাই টিভির সাদুল্লাপুর প্রতিনিধি শাহীন মিয়ার বিরুদ্ধে কৃষকের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপির মতবিনিময় সভা গাইবান্ধা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কথিত ‘মল্লিক সিন্ডিকেট’-এর দাপট: অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে রেকর্ড জালিয়াতির অভিযোগ গাইবান্ধা জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের সাংগঠনিক বৈঠক ঢাকা-কক্সবাজার রুটের স্লিপার বাস সার্ভিসের আড়ালে ইব্রাহিমের উত্থান: ইয়াবা সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ সাদুল্লাপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব দেওয়ান আজাদ পারভেজের পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাত্রা পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ: প্রবাসী দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনকে উচ্ছেদ, পঙ্গু মা ও শিশু কন্যাসহ মানবেতর জীবনযাপন

মাই টিভির সাদুল্লাপুর প্রতিনিধি শাহীন মিয়ার বিরুদ্ধে কৃষকের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

আবু জাফর মন্ডল স্টাফ রিপোর্টার:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মাই টিভির প্রতিনিধি শাহীন মিয়ার বিরুদ্ধে শহিদুল ইসলাম নামে এক অসহায় কৃষকের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।কথিত সাংবাদিক শাহীন মিয়া সাদুল্লাপুর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) থেকে দু’টি সেচ পাম্প নিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৃষক শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার ৩০০ টাকা, দুটি চেকের পাতা, জমির মূল দলিল নেয়। পরে ওই চেকের একটি পাতায় ৫ লাখ টাকা বসিয়ে মিথ্যা চেক ডিজঅনার মামলা করে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার বিকালে গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কৃষক শহিদুল ইসলাম এসব অভিযোগ করে। শহিদুল ইসলাম সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত. লাল মিয়ার ছেলে।

অভিযুক্ত শাহীন মিয়া উপজেলার জয়েনপুর (তুলসীঘাট রোড) গ্রামের মৃত জসিজল হকের ছেলে।মাই টিভি ছাড়াও তিনি এলাকায় নিজেকে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবেও পরিচয় দেন।

সংবাদ সম্মেলনে কৃষক শহিদুল ইসলামের জানান, তিনি লেখাপড়া না জানা একজন নিরক্ষর মানুষ। তিনি ৫/৬ বছর আগে সাদুল্লাপুর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিকট ২টি সেচ পাম্পের জন্য আবেদন করেন। সেই সময় তাঁর ফুফাতো ভাই আনিছার রহমানের পূর্ব পরিচিত কথিত সাংবাদিক শাহীন মিয়ার সঙ্গে কৃষক শহিদুলের পরিচয় হয়। শাহীন মিয়া বিএমডিএ থেকে সেচ পাম্প দ্রুত নিয়ে দেবার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৮ হাজার তিনশত টাকা নেয়। কিছুদিন পর শাহীন মিয়া তাকে জানান সেচ পাম্প নিতে হলে অফিসে দুটি ফাকা চেকের পাতা অফিসে জমা দিতে হবে। কিন্তু শহিদুল ইসলামের কোন ব্যাংক একাউন্ট না থাকায় শাহীন তাকে অগ্রণী ব্যাংকের সাদুল্লাপুর শাখায় একটি একাউন্ট খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

কৃষক শহিদুল ইসলামের ভাষ্য, ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর শাহীন মিয়া তাকে অগ্রণী ব্যাংকের সাদুল্লাপুর শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলে দেন। হিসাব খোলার পর ব্যাংক থেকে একটি চেকবই দেওয়া হলে কথিত সাংবাদিক শাহীন প্রথম পাতা বাদ দিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাতার দুটি চেক ছিঁড়ে নেন এবং চেকে দু’টিতে তাঁর টিপসইও নেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় শাহীন মিয়া তার ২৬ শতক জমির মূল দলিল, একটি জমির পর্চা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও নেন।

তিনি বলেন, এরপর দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাত, টালবাহানা ও ভয়ভীতি দেখায়ে তাঁর কাছে শাহীন টাকা-পয়সা দাবি করেন। অতিষ্ঠ হয়ে এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জজ আদালতে প্রতারণার দায়ের করেন।

তার অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর শাহীন মিয়া তার কাছ থেকে নেওয়া চেকের একটি পাতায় ৫ লাখ টাকা লিখে উল্টো সেই টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাহীন তার বিরুদ্ধে আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করে।

তিনি বলেন, “আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিরীহ মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন।”

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিবেশী লিটন মিয়া। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, কথিত সাংবাদিক শাহীন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। তাঁর দাবি, এক সময় শাহীন সাদুল্লাপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ঘোরাফেরা করতেন। সম্প্রতি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শাহীন মিয়া মোবাইল ফোনে জানান, তার নিকট থেকে তিনি টাকা পান। পাওনা টাকা দিতে তালবাহনা করায় তিনি তার বিরুদ্ধে আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা