সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মাজহারুল ইসলামের অভিযোগ- রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হলেও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি ফ্ল্যাট; তিন দফা লিগ্যাল নোটিশ, দেওয়ানি মামলা ও দুটি জিডির পরও মিলছে না প্রতিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা:
রাজধানীর মিরপুরে একটি আবাসন প্রকল্পে ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ এবং ফ্ল্যাটের চূড়ান্ত রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহার করতে ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশ, হামলা এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মাজহারুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি একজন স্যানিটারি সামগ্রী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্রে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাকারিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে কোম্পানির মিরপুরের একটি প্রকল্পে ৯ তলা অনুমোদিত ভবনের ৬ষ্ঠ তলার ১ হাজার ৩৭৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট মোট ৭২ লাখ টাকায় ক্রয় করেন।
তার দাবি, বায়না হিসেবে ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করে বায়না রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন এবং পরে চূড়ান্ত রেজিস্ট্রিও সম্পন্ন হয়। কিন্তু রেজিস্ট্রির পরও আজ পর্যন্ত ফ্ল্যাটটি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
মাজহারুল ইসলাম জানান, ফ্ল্যাট বুঝে না পাওয়ায় তিনি ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ১৯ ডিসেম্বর—এই তিন দফায় আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এরপরও কোনো সমাধান না হওয়ায় বাকি ২ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রেখে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-৫৯৩/২০২৫) দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে আল ফালাক রিয়েল এস্টেটের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের হুমকি, এমনকি হাত-পা ভেঙে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর মডেল থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৩৮১৮ ও ৩২৯) করেছেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী মাজহারুল ইসলাম আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ক্রয়কৃত ফ্ল্যাট দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী রিয়াজুল ইসলাম, মমতাজ বেগম, মুস্তাফিজুর রহমান এবং প্রিন্সিপাল মো. মাহফুজসহ অন্যান্যরা।
অভিযুক্তের বক্তব্য:
প্রতিবেদন প্রকাশের আগে অভিযোগের বিষয়ে জানতে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাকারিয়ার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে