সালমান ফারসি স্টাফ রিপোর্টারঃ
আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত মো. সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী মোছা. স্বপ্না খাতুন (২৬)-কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে এ রায় প্রদান দেশের বিচারিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারায় মো. সোহেল রানাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৬৮ ধারার বিধান অনুযায়ী তাকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২)/৩০ ধারায় মোছা. স্বপ্না খাতুনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। তার ক্ষেত্রেও হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারার বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত আরও নির্দেশ দেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির দণ্ডাদেশ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল নথি ও কার্যক্রম ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৭৪ ধারার বিধান অনুসারে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করতে হবে।
এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৬) ও ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামিদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থদণ্ডের সম্পূর্ণ অর্থ নিহত রামিসা আক্তারের আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
দ্রুততম সময়ে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে দেওয়া এ রায় নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি রোধে এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের দ্রুত বিচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।