আবু জাফর মন্ডল এখলাছ:
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক শান্তি ও পারস্পরিক সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্বানে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময়ে পৌরসভার চৌমাথা ফ্লাইওভারের নিচে প্রস্তাবিত রামমূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করে পৃথক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে নিজেদের “পলাশবাড়ীর সাধারণ জনগণ” পরিচয় দেওয়া একটি সংগঠন।
বুধবার (১০ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে উপজেলার ২ নম্বর হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের সভাপতি হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন বক্তব্য, তার আয়-ব্যয়ের উৎস নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্ন এবং এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি না হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, যেকোনো অভিযোগ বা বিতর্কের বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কোনো ব্যক্তি বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) সোহানুর রহমান সোহাগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান তাপাদার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুস সামাদ মণ্ডল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির আবু বক্কর সিদ্দিক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশফেকুর রহমান রিপন এবং উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি দিলিপ চন্দ্র সাহা।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং সম্প্রীতির সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে একই সময়ে পলাশবাড়ী পৌরসভার চৌমাথা ফ্লাইওভারের নিচে প্রস্তাবিত রামমূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, জনবহুল এলাকায় বিশাল আকৃতির রামমূর্তি নির্মাণ স্থানীয়ভাবে বিতর্ক ও উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তারা মূর্তি নির্মাণ উদ্যোগের সঙ্গে হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, যেকোনো উন্নয়ন বা স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, সামাজিক বাস্তবতা এবং সম্প্রীতির বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবাদ সমাবেশে সংগঠনের পক্ষে মুহাম্মদ তারিফুর রহমান, মারজুক এবং আইনুল হক বক্তব্য দেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, একই দিনে সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান এবং রামমূর্তি নির্মাণ ইস্যুতে পৃথক প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে উভয় কর্মসূচিতেই বক্তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে পলাশবাড়ীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকে।