রতন চন্দ্র দে ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহ বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘মোটরসাইকেল খেলা’ (ডেথ ওয়েল) এখন নিরাপত্তা ও আইনগত বৈধতা নিয়ে তীব্র প্রশ্নের মুখে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এই আয়োজনটি দুর্বল কাঠামোর ওপর পরিচালিত হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পাবলিক অ্যামিউজমেন্ট বা জনসমাগমপূর্ণ বিনোদনমূলক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য খেলোয়াড়দের উচ্চ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। সেই সাথে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং খেলা প্রদর্শনের জন্য সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে এই ধরনের মোটরসাইকেল খেলা প্রদর্শনের জন্য আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স একমাত্র এস এম রাশেদ-এর নামে রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২০১৭/১৮ সালে ময়মনসিংহ বাণিজ্য মেলায় লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল খেলার বিরুদ্ধে এস এম রাশেদ অভিযোগ দায়ের করলে তৎকালীন জেলা প্রশাসন তদন্ত শেষে সেই অবৈধ আয়োজন বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এবারও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, সাধারণত এই ধরনের খেলায় শক্ত লোহার পাইপ, ভারসাম্য রক্ষায় মোটা লোহার তার (ওয়ার) এবং বহুস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও বর্তমান কাঠামোতে সেসবের অভাব রয়েছে। বরং বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঠেকানো দুর্বল মঞ্চে এই বিপজ্জনক খেলা পরিচালিত হচ্ছে, যা দর্শনার্থীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে-
যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে এর দায়ভার কে নেবে? মেলা পরিচালনা কমিটি, নাকি জেলা প্রশাসন?
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আয়োজন পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। এসব নিয়ম উপেক্ষা করা হলে তা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি।
সচেতন নাগরিকদের দাবি:
অবিলম্বে এই আয়োজনের বৈধতা যাচাই করা
লাইসেন্স ও অনুমোদনপত্র প্রকাশ করা এবং
নিরাপত্তাহীন কাঠামোতে খেলা বন্ধ করা
দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের গুরু দায়িত্ব হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্হা চোখে পড়েনি।
স্হানীয় সচেতন মহল জানান রোমাঞ্চের নামে জীবন ঝুঁকিতে ফেলা কখনোই কাম্য নয়। নিরাপত্তাহীন সকল আয়োজন এড়িয়ে চলা সবার দায়িত্ব এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হোক প্রতিটি মেলা আয়োজনের প্রথম শর্ত—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন সমাজের।