নিজস্ব প্রতিবেদক:
আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না, শিশু রামিসার বাবার এমন হৃদয়বিদারক বক্তব্য যেন পুরো রাষ্ট্রের জন্য এক নির্মম প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন অসহায় বাবা কতটা ভেঙে পড়লে, কতটা হতাশ হলে বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারেন- সেই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রামিসার বাবার কান্নাভেজা বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আবেগ ও ক্ষোভ।
তিনি আরও বলেন, এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা থামাচাপা পড়ে যাবে।”
এই একটি বাক্যেই যেন উঠে এসেছে সমাজের বাস্তব চিত্র আলোচিত ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা, প্রতিবাদ, মানববন্ধন; তারপর ধীরে ধীরে সবকিছু হারিয়ে যায় নীরবতায়।
শিশু রামিসার মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দিন দিন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোও আর ন্যায়বিচারের আশা করতে সাহস পায় না।
সচেতন মহলের দাবি, শুধু আবেগঘন বক্তব্যে সহানুভূতি দেখালেই হবে না; শিশু নির্যাতন, হত্যা ও সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। না হলে সমাজে অপরাধের ভয় কমবে না, বরং মানুষ রাষ্ট্র ও আইনের প্রতি আস্থা হারাতে থাকবে।
একজন বাবার চোখের পানি শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়- এটি পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা।
এ ঘটনায় জড়িত আটককৃত খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন নির্মম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।