নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা:
রাজধানীর মতিঝিল সিটি সেন্টারের সামনে দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মজলুম সমাবেশে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে পাচারকৃত বিপুল অর্থ উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেফতারের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপ দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। তিনি দাবি করেন, “ব্যাংক ডাকাত” হিসেবে পরিচিত এস আলমের পাচারকৃত প্রায় দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার কোটি টাকা দ্রুত উদ্ধার করতে হবে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এভিপি মাহফুজ আলম, মোস্তফা কামাল ও ফারুক আহমেদ লিটনসহ অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
সমাবেশ থেকে পলাতক এস আলম গ্রুপ, সামিট গ্রুপ ও অন্যান্য অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বর্তমানে কারা পরিচালনা করছেন, তা জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক সিনিয়র অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী, কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদের সহোদর ডা. নুরুজ্জামান, মহান মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা লিডার ড. শফিকুল ইসলাম কানু, পারভীন নাসের খান ভাসানী, কাজী আলম, আফাজ উদ্দিন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মঈনুদ্দীন, প্রতারিত ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন ইউসুফ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রতারণার শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমুদ্দিন চৌধুরী ও হাসিনা আক্তার চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, অর্থ পাচার ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্যে সাধারণ আমানতকারীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা দুর্নীতিবিরোধী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের সম্পদ জব্দের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে অংশগ্রহণকারীরা কথিত “নতুন কালো আইন”-এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন