স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা:
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পূর্বঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উভয় দল কর্মসূচি স্থগিত করায় সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা গেছে, গত ২৯ জুন রাতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ উভয় দলের অন্তত সাতজন আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পৃথকভাবে ১ জুলাই (বুধবার) পলাশবাড়ী পৌর শহরের চৌমাথা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয়। একই স্থান ও প্রায় একই সময়ে কর্মসূচি ঘোষণার কারণে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এর আগে, ৩০ জুন বিকেলে একই ধরনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন পলাশবাড়ী চৌমাথা ও এর আশপাশের ৫০০ গজ এলাকাজুড়ে বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। ফলে ওই দিন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
পরবর্তীতে সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন উভয় দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। প্রশাসনের অনুরোধে সাড়া দিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু আলা মওদুদ এবং পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক পত্রের মাধ্যমে নিজ নিজ দলের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ। তিনি জানান, জননিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের আহ্বানে উভয় রাজনৈতিক দলের ইতিবাচক সাড়া অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
এদিকে, বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করায় দুই দলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলও মনে করছেন, প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সংযমী অবস্থানের ফলে পলাশবাড়ীতে একটি সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।