স্টাফ রিপোর্টার:
প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ৩০ মিনিট কাজ করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করুন”—এমন লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্র। জনপ্রিয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজের নাম, লোগো ও ডিজাইনের আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে তারা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং পরবর্তীতে অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সম্প্রতি একাধিক ব্যক্তির কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি নম্বর থেকে যোগাযোগ করে নিজেদের একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেওয়া হচ্ছে।
কথোপকথনের শুরুতেই বলা হচ্ছে, ঘরে বসে পার্ট-টাইম কাজের মাধ্যমে প্রতিদিন ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। এরপর ভুক্তভোগীকে জানানো হয়, একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন অর্ডারে ক্লিক করে বিক্রয় বাড়াতে সহায়তা করলেই কমিশন দেওয়া হবে।
প্রতারকরা আরও দাবি করছে, কোনো পণ্য কেনা বা বিক্রি করতে হবে না, শুধু নির্দিষ্ট কিছু অর্ডারে ক্লিক করলেই কমিশন পাওয়া যাবে। কাজটি অত্যন্ত সহজ এবং কয়েক মিনিটেই প্রথম আয় শুরু হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য প্রতারকরা দারাজের লোগো ব্যবহার করে একটি নিবন্ধন পেজের ছবি পাঠায়। এরপর একটি সন্দেহজনক ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে সেখানে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে নিবন্ধনের নির্দেশনা দেয়। যদিও ওই ওয়েবসাইটটির সঙ্গে দারাজের কোনো অফিসিয়াল সম্পর্ক নেই।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত একটি “টাস্ক স্ক্যাম” বা “কমিশনভিত্তিক অনলাইন প্রতারণা”। প্রথমে সামান্য কমিশন দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করা হয়। পরে বড় অঙ্কের কমিশনের প্রলোভন দেখিয়ে “VIP আপগ্রেড”, “অ্যাকাউন্ট সক্রিয়করণ”, “রিচার্জ”, “ডিপোজিট” বা “ট্যাক্স” এর নামে ধাপে ধাপে টাকা জমা দিতে বাধ্য করা হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী মোটা অঙ্কের টাকা হারিয়ে ফেলেন এবং প্রতারকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কখনোই হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাকরির প্রস্তাব দেয় না বা ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে বলে না। অফিসিয়াল নিয়োগ সবসময় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট অথবা যাচাইকৃত নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, অস্বাভাবিক আয়ের প্রলোভনে সাড়া না দেওয়া, সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে নিবন্ধন না করা এবং কোনো অবস্থাতেই OTP, NID, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ, নগদ বা ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য শেয়ার না করার জন্য।
জনসচেতনতায় করণীয়:
অস্বাভাবিক আয়ের প্রতিশ্রুতি দেখলে সতর্ক হোন।
অফিসিয়াল ডোমেইন যাচাই না করে কোনো ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করবেন না।
অপরিচিত বিদেশি নম্বর থেকে আসা চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করবেন না।
কোনো ধরনের অগ্রিম টাকা বা ডিপোজিট প্রদান করবেন না।
প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অথবা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করুন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণা দিন দিন বাড়ছে। তাই সহজে বেশি আয়ের লোভে না পড়ে, তথ্য যাচাই করে এবং সচেতনতার সঙ্গে অনলাইনে কাজের সুযোগ গ্রহণ করাই নিরাপদ।