• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
Headline
তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত গাইবান্ধার জনজীবন : আখের রসে পিপাসা নিবারণের চেষ্টা বেতনের হিসাব মিলছে না সম্পদের পাহাড়ের সঙ্গে: এনবিআর কর্মকর্তার নামে-বেনামে ৪০০ কোটির বেশি সম্পদের অনুসন্ধান চায়ের কাপে চেয়ারম্যানি নয়, রায় দেবে জনগণ বুড়িচংয়ে নুরুল ইসলাম (আবদুল হক মাস্টার) চেয়ারম্যান স্মৃতি শিক্ষা ফাউন্ডেশন এর বৃত্তি সনদ প্রদান অনুষ্ঠিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটি গাজীপুরে সাংবাদিক অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ: বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, ক্যামেরা-নগদ টাকা লুট; গ্রেপ্তার- ৫ গাইবান্ধায় বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগ: গণঅধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ ডিবিসি’র শাফায়েতের কবলে নারী উপস্থাপিকারা, পরকীয়ায় অভিযোগ তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়ে চাকুরিচ্যুত ছাতকে বসেছে ইজারা বহির্ভূত পশুর হাট, রাজস্ব হারালো সরকার জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬: নরসিংদীর শ্রেষ্ঠ ইউএনও আসমা জাহান সরকার

জনস্বার্থে সরকারি মেডিকেল, থানা, ভূমি অফিস ও সকল সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান দালালমুক্ত করা জরুরি

Reporter Name / ৮২ Time View
Update : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

 

এ কে এম শরিফুল ইসলাম জুয়েল:

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আজ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানে গড়ে ওঠা দালাল চক্রের কারণে। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘিরে যে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য ও দালাল সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, তা জনগণের মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদার উপর সরাসরি আঘাত করছে। একইভাবে থানা, ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দালালদের দৌরাত্ম্য সাধারণ মানুষকে অসহায় করে তুলেছে।

সরকারি হাসপাতালে একজন অসুস্থ মানুষ চিকিৎসার জন্য গেলে অনেক সময় হাসপাতালের ভেতর বা আশেপাশে অবস্থানকারী দালালরা রোগীকে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতে বাধ্য করে। সেখানে অতিরিক্ত টাকা আদায়, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং কমিশনভিত্তিক ব্যবসা চালানো হয়। দরিদ্র রোগীরা তাদের শেষ সম্বল বিক্রি করেও চিকিৎসা নিতে হিমশিম খায়। চিকিৎসা সেবা যেখানে মানবিক হওয়ার কথা, সেখানে সেটি এখন অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক শোষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

একই অবস্থা থানাগুলোতেও। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় থানায় গেলে অনেক সময় দালাল ছাড়া অভিযোগ দায়ের, জিডি বা মামলার অগ্রগতি সম্ভব হয় না—এমন অভিযোগ অহরহ শোনা যায়। ভূমি অফিসে নামজারি, খতিয়ান, পর্চা, জমি সংক্রান্ত সেবা পেতেও দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হন সাধারণ নাগরিকরা। এতে জনগণের আস্থা নষ্ট হচ্ছে এবং দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে।

আমরা জোর দাবি জানাই—
১. সরকারি মেডিকেল ও হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় সকল দালাল ও কমিশনভিত্তিক সিন্ডিকেট অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে।
২. হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে অনুমোদনহীন রোগী ধরার কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
৩. থানা, ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিসসহ সকল সরকারি দপ্তরে দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. প্রতিটি অফিসে ডিজিটাল সেবা, অভিযোগ বক্স ও হটলাইন কার্যকর করতে হবে।
৫. দালালদের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬. জনগণের সরাসরি সেবা নিশ্চিত করতে মনিটরিং টিম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।
৭. সরকারি অফিসে “দালালমুক্ত সেবা” বিষয়ক দৃশ্যমান প্রচারণা ও সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রাষ্ট্রের সকল সেবা প্রতিষ্ঠান জনগণের জন্য, কোনো দালাল চক্রের জন্য নয়। জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত অফিসগুলোতে সাধারণ মানুষ যেন সম্মান ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সেবা পায়, সেটিই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রধান অঙ্গীকার।

অতএব, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে অবিলম্বে সরকারি সকল অফিসকে দালালমুক্ত ঘোষণা ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

লেখকঃ

মোর্শেদ কেবলা দয়ালবাবা এ কে এম শরিফুল ইসলাম জুয়েল। নির্বাহী সম্পাদক :জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট ও ভাইস চেয়ারম্যান বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি ঢাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা