• শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
Headline
ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩ জন ডাকাত গ্রেফতার, সিএনজি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন সতর্কবার্তা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি সাংবাদিক গ্রেফতার আর কত? গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কি কেবল কাগজে-কলমে? এক ব্যক্তি-দুই চাকরি, স্বামী-স্ত্রীর নামে চার চাকরির অভিযোগ! ময়মনসিংহে ‘ভূতুড়ে চাকরি’ সিন্ডিকেটের অনুসন্ধানের দাবি সাদুল্লাপুরে এমপি মমতাজ আলোর সঙ্গে প্রশাসন ও বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার সাংগঠনিক উন্নয়ন সভা ও গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব অনুষ্ঠিত ৭০ লাখ টাকা নিয়েও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়নি আল ফালাক রিয়েল এস্টেট! মামলা তুলতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সাঘাটায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাই টিভির সাদুল্লাপুর প্রতিনিধি শাহীন মিয়ার বিরুদ্ধে কৃষকের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপির মতবিনিময় সভা

সম্পাদকীয় | আইন আছে, কিন্তু থামছে না অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন

Reporter Name / ৫৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

 

ওয়াজ, নাটক, গান, সিনেমা সবখানেই বেটিংয়ের প্রলোভন; বিপন্ন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

লেখক: এম এ মমিন আনসারী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট।

একদিকে বাংলাদেশ সরকার অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আইন প্রণয়ন, অভিযান এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বারবার জানানো হচ্ছে—অনলাইন জুয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। অন্যদিকে দেশের কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমোসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করেই দেখতে পাচ্ছেন অনলাইন ক্যাসিনো ও বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন।

ইউটিউবে একটি ইসলামি ওয়াজ শুনতে গেলেও মাঝপথে চলে আসে জুয়ার বিজ্ঞাপন। শিশুদের কার্টুন, শিক্ষামূলক ভিডিও, নাটক, গান কিংবা সিনেমার মধ্যেও দেখা যায় একই চিত্র। ফেসবুক স্ক্রল করলেই স্পন্সরড পোস্ট, ভিডিও কিংবা রিলে ভেসে ওঠে অনলাইন বেটিংয়ের লোভনীয় অফার। অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করছেন, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমো ব্যবহারের সময়ও বিভিন্ন ধরনের জুয়ার প্রচারণা চোখে পড়ে।

প্রশ্ন উঠছে—যেখানে আইন করে অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেখানে এই বিজ্ঞাপনগুলো কীভাবে সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনে পৌঁছাচ্ছে?

ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব

মনোবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রচারণা নয়; এটি আচরণগত প্রভাব তৈরির একটি কৌশল। বারবার একই ধরনের বিজ্ঞাপন দেখানো হলে বিশেষ করে কিশোর-তরুণদের মধ্যে দ্রুত অর্থ উপার্জনের অবাস্তব আশা তৈরি হতে পারে। পরে অনেকেই আর্থিক ক্ষতি, ঋণ, পারিবারিক বিরোধ এবং মানসিক চাপে পড়েন।

উদ্বেগের বিষয় হলো, অ্যালগরিদমভিত্তিক ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা একজন ব্যবহারকারীকে একই ধরনের বিজ্ঞাপন বারবার দেখাতে পারে, ফলে এর প্রভাব আরও বাড়ে।

আইন কী বলছে?

বাংলাদেশে জুয়া দীর্ঘদিন ধরেই আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান জোরদার করেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অনলাইন বেটিং পরিচালনাকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু অনেক বিজ্ঞাপন বিদেশভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হয়, তাই শুধু দেশের ভেতরে অভিযান চালিয়ে সমস্যার পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা।

দায়িত্ব কার?

এই প্রশ্ন এখন কোটি মানুষের।

– সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব অবৈধ অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
– সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব ক্ষতিকর ডিজিটাল কনটেন্ট ও বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণ করা।
– আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত স্থানীয় আইন ও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
– পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমেরও সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

যা বলছেন সচেতন নাগরিকরা

সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনেকেই বলছেন, এখন ইউটিউবে ধর্মীয় আলোচনা শুনতে গেলেও জুয়ার বিজ্ঞাপন আসে। শিশুদের ভিডিওতেও অনুপযুক্ত বিজ্ঞাপন দেখা যায়। কেউ কেউ বিরক্ত হয়ে বিজ্ঞাপন রিপোর্ট করেন, কিন্তু কিছুদিন পর আবার একই ধরনের বিজ্ঞাপন ফিরে আসে। এতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে—ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো কি তাদের নিজস্ব নীতিমালা যথাযথভাবে প্রয়োগ করছে?

করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে—

– অবৈধ অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপ দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
– প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন অপসারণের ব্যবস্থা জোরদার করা।
– কিশোর-তরুণদের জন্য ডিজিটাল সাক্ষরতা ও অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করা।
– অভিভাবকদের সন্তানদের অনলাইন ব্যবহারে সচেতন নজর রাখা।
– ব্যবহারকারীদের সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন Report বা Hide করার অভ্যাস গড়ে তোলা।

সময়ের দাবি

একটি রাষ্ট্র যখন অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করে, তখন সেই আইনের প্রতিফলন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ডিজিটাল অভিজ্ঞতাতেও দেখা উচিত। যদি আইন একদিকে জুয়াকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে, আর অন্যদিকে কোটি মানুষের মোবাইলের পর্দায় অবাধে জুয়ার বিজ্ঞাপন পৌঁছে যায়, তাহলে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য তখনই অর্থবহ হবে, যখন শিশু, কিশোর, তরুণ ও সাধারণ নাগরিক একটি নিরাপদ অনলাইন পরিবেশে শিক্ষা, বিনোদন ও তথ্য গ্রহণ করতে পারবেন। অনলাইন জুয়ার আগ্রাসন রোধে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন।

অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আইন যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজন সেই আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা