নিরাপত্তা জামানতের নামে অর্থ আদায়, বেতন-ভাতা বঞ্চনা, ডিলারদের সঙ্গে প্রতারণা, ওষুধের মান ও উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন—ভুক্তভোগীদের অভিযোগে তদন্তের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক যশোর :
যশোর ও ঝিনাইদহ অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনাকারী আশরাফুল ল্যাবরেটরীজ লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়া, ডিলারশিপ, ওষুধের গুণগত মান, উৎপাদন ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কর্মী, ডিলার ও সাধারণ গ্রাহকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বহু মানুষ।
অভিযোগ অনুযায়ী, মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (MPO), এরিয়া ম্যানেজার ও অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের সময় প্রার্থীদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিরাপত্তা জামানত নেওয়া হয়। কিন্তু চাকরি ছাড়ার পর সেই জামানত ফেরত দেওয়া হয় না বলে একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ। এছাড়া আকর্ষণীয় বেতন-ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কর্মী নিয়োগ করলেও বাস্তবে নির্ধারিত বেতন, টিএ/ডিএ ও অন্যান্য সুবিধা থেকে কর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, অবাস্তব বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা (টার্গেট) পূরণ না করার অজুহাতে বিনা নোটিশে কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর নতুন কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে পুনরায় নিরাপত্তা জামানত আদায় করা হয়। অনেক কর্মী অভিযোগ করেছেন, চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত সময় কাজ করিয়েও তাদের ন্যায্য কমিশন ও প্রাপ্য সুবিধা দেওয়া হয় না।
ডিলারদের অভিযোগ আরও গুরুতর। বিভিন্ন জেলায় ডিলারশিপ বা শোরুম দেওয়ার আশ্বাসে মোটা অঙ্কের অগ্রিম অর্থ নেওয়ার পর সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের, অবিক্রিত বা প্রায় মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য গ্রহণে চাপ সৃষ্টি করা হয়। পাশাপাশি প্রচারণা ও চিকিৎসক সহায়তার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ওষুধের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, কিছু হারবাল ও ইউনানী পণ্যে অনুমোদনহীন বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন এবং রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা অবশ্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এছাড়া কোম্পানির কিছু চিকিৎসাকেন্দ্রে যথাযথ স্বীকৃত চিকিৎসকের পরিবর্তে অযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে রোগী দেখানো এবং রোগীদের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ও ব্যয়বহুল ওষুধ কিনতে উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগও করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
এতসব অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর নজরদারি ও তদন্তের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য: এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আশরাফুল ল্যাবরেটরীজ লিমিটেডের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।