• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
Headline
মাদককে না বলি’ স্লোগানে টঙ্গীতে জনসচেতনতামূলক মিছিল, মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান সম্পাদকীয়: বিষ খাচ্ছি, আর ভাবছি বাঁচব! একটি জাতির পেটের আর্তনাদ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পর্ব-১ তদন্তে অনিয়ম প্রমাণ, মাউশির বেতন স্থগিত: তবুও বহাল অধ্যক্ষ আমজাদ; কার ছত্রচ্ছায়ায় চলছে কলেজ? ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩ জন ডাকাত গ্রেফতার, সিএনজি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন সতর্কবার্তা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি সাংবাদিক গ্রেফতার আর কত? গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কি কেবল কাগজে-কলমে? এক ব্যক্তি-দুই চাকরি, স্বামী-স্ত্রীর নামে চার চাকরির অভিযোগ! ময়মনসিংহে ‘ভূতুড়ে চাকরি’ সিন্ডিকেটের অনুসন্ধানের দাবি সাদুল্লাপুরে এমপি মমতাজ আলোর সঙ্গে প্রশাসন ও বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার সাংগঠনিক উন্নয়ন সভা ও গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব অনুষ্ঠিত ৭০ লাখ টাকা নিয়েও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়নি আল ফালাক রিয়েল এস্টেট! মামলা তুলতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

রূপালী ব্যাংকে ‘অদৃশ্য ক্ষমতার সাম্রাজ্য’: পেটোয়া বাহিনী, বদলি-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক দমনের অভিযোগে এমডিকে ঘিরে তোলপাড়!

Reporter Name / ১৭২ Time View
Update : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

 

জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি বঞ্চনা, দূরবর্তী বদলি ও প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ; অপসারণ দাবি জোরালো হচ্ছে কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের

নিজস্ব সংবাদদাতা:

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ওয়াহিদুল ইসলামকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জিয়া পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেছেন, ব্যাংকে ভয়ভীতি, রাজনৈতিক পক্ষপাত, পদোন্নতি বঞ্চনা, দূরবর্তী বদলি এবং প্রশাসনিক বৈষম্যের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বহাল থাকা এমডি কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম ব্যাংকের ভেতরে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বলয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে ভিন্নমতাবলম্বী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

ব্যাংকের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পদোন্নতি ও বদলিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে দেশের দূরবর্তী এলাকায় বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সুবিধা প্রদানের অভিযোগও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (জেবিএবি)-এর নেতাদের অভিযোগ, অতীতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন কর্মকর্তা হেনস্তা ও আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে একজন কর্মকর্তাকে দূরবর্তী কর্মস্থলে বদলি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেক কর্মকর্তা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে ভয় পান। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেই হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হয়।”

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তারা ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পদোন্নতির বিষয়ে আবেদন জানাতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ঘটনায় ৪৪ জন কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়, কয়েকজনকে দূরবর্তী এলাকায় বদলি করা হয় এবং একাধিক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তারা কেবল পূর্বঘোষিত পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতেই আবেদন করেছিলেন।

এদিকে সম্প্রতি রূপালী ব্যাংক জিয়া পরিষদের তিন শীর্ষ নেতাকে দূরবর্তী কর্মস্থলে বদলি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ারকে ফরিদপুর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ এস এম নিয়াজ মোর্শেদকে ময়মনসিংহ এবং সদস্যসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে কুমিল্লায় বদলি করা হয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, অন্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যাংকের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

গত ৪ জুন রূপালী ব্যাংক জিয়া পরিষদের নেতারা অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে এমডি কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাত, প্রশাসনিক অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বদলি-বাণিজ্য এবং দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে তার অপসারণের দাবিও উত্থাপন করা হয়।

রূপালী ব্যাংক জিয়া পরিষদের সভাপতি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। পদোন্নতি বঞ্চনা, দূরবর্তী বদলি এবং প্রশাসনিক চাপের কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রশাসনকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং ব্যাংকের ভাবমূর্তি ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা