• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন
Headline
মাদককে না বলি’ স্লোগানে টঙ্গীতে জনসচেতনতামূলক মিছিল, মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান সম্পাদকীয়: বিষ খাচ্ছি, আর ভাবছি বাঁচব! একটি জাতির পেটের আর্তনাদ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পর্ব-১ তদন্তে অনিয়ম প্রমাণ, মাউশির বেতন স্থগিত: তবুও বহাল অধ্যক্ষ আমজাদ; কার ছত্রচ্ছায়ায় চলছে কলেজ? ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩ জন ডাকাত গ্রেফতার, সিএনজি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন সতর্কবার্তা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি সাংবাদিক গ্রেফতার আর কত? গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কি কেবল কাগজে-কলমে? এক ব্যক্তি-দুই চাকরি, স্বামী-স্ত্রীর নামে চার চাকরির অভিযোগ! ময়মনসিংহে ‘ভূতুড়ে চাকরি’ সিন্ডিকেটের অনুসন্ধানের দাবি সাদুল্লাপুরে এমপি মমতাজ আলোর সঙ্গে প্রশাসন ও বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার সাংগঠনিক উন্নয়ন সভা ও গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব অনুষ্ঠিত ৭০ লাখ টাকা নিয়েও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়নি আল ফালাক রিয়েল এস্টেট! মামলা তুলতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

মঠবাড়ীয়া মৎস্য অফিসে অনিয়মের অভিযোগে ফের আলোচনায় সাইফুল ইসলাম প্রিন্স

Reporter Name / ৯৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলা মৎস্য অফিসের আলোচিত ব্যক্তি সাইফুল ইসলাম প্রিন্সকে ঘিরে আবারও নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জেলে ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতীতে অনিয়মের অভিযোগে চাকরি হারালেও রহস্যজনকভাবে তিনি পুনরায় একই প্রকল্পে বহাল হয়েছেন।

জানা গেছে, সাইফুল ইসলাম প্রিন্স দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী ও উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে ভাইভার কাগজপত্র পরিবর্তন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করেন।

পরবর্তীতে গরু, ছাগল ও জাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ তদন্তে খুলনা ও বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করেন। তদন্তকালে দেখা যায়, মাস্টার রোলে উপকারভোগীদের নাম থাকলেও বাস্তবে তাদের কাছে গরু বা ছাগল নেই। তুষখালী ইউনিয়নের জানখালী গ্রামে অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীকে পাওয়া যায়, যারা তালিকাভুক্ত হলেও কোনো সহায়তা পাননি। এ ঘটনায় বাদশা, হেমায়েত, জাহাঙ্গীরসহ অন্তত ১০ জন সাক্ষ্য দেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া জেলে কার্ড করে দেওয়ার নামে বিভিন্ন জেলের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রিন্সের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, বেতমোর এলাকার তরিকুলের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা, কচুবাড়িয়ার সন্তোষের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং সাপলেজার ইসমাইলের কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকাসহ শতাধিক জেলের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জেলেদের সচেতনতামূলক সভার জন্য সরকারি বরাদ্দ এলেও প্রকৃত ব্যয় দেখানো হতো কম। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একটি সভার জন্য প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ করা হতো না। বাকি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সাপলেজা ইউনিয়নের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, “একটি সচেতনতা সভার ডেকোরেশনের কাজ করার জন্য আমাকে অনুরোধ করা হয়। কাজ শেষ হলেও আজ পর্যন্ত টাকা পাইনি।”

আরও অভিযোগ রয়েছে, হলতা গুলিচাখালী এলাকায় নদী না থাকলেও সেখানে প্রকল্পের অধিকাংশ বরাদ্দ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “স্থানীয় প্রশাসন সুপারিশ করলে আমি নিয়োগ দিতে বাধ্য।”

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দিলে আমার কিছু করার নেই।”

তবে ভুক্তভোগী জেলে ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— তাদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা কিংবা বকেয়া পাওনার দায়ভার কে নেবে? অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা